তোমরা গল্প পড়ে বা ছবি দেখে জেনেছ যে সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে পরিধানের উদ্দেশ্যও পরিবর্তিত হচ্ছে। যে সব কারণে মানুষ পোশাকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
শালীনতা রক্ষা- সভ্য সমাজে লজ্জা নিবারণ ও শালীনতা রক্ষার উদ্দেশ্যেই মানুষ পোশাক পরে। এই শালীনতা রক্ষার জন্য মানুষ স্থানীয় সমাজ, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিধান করে আসছে। এ কারণেই ইসলামিক পোশাকের সাথে জাপানিজ পোশাক কিংবা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের পোশাকের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যরক্ষা- স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পোশাকের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাইরের ধুলাবালি, বিষাক্ত গ্যাস ও রোগ-জীবাণুর হাত থেকে রক্ষার জন্য আমরা পোশাক পরিধান করি। এছাড়া স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অনেক সময় আমরা সাধারণ পোশাকের সাথে রুমাল, মাথায় টুপি, হাতে দস্তানা, মাস্ক, এপ্রোন ইত্যাদিও ব্যবহার করি।
আরামপ্রদান- তোমরা জানো বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতি বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। তাই দেহকে আরাম প্রদানের জন্য বিভিন্ন ঋতুতে যেমন শীতকালে গরম পশমি পোশাক; গ্রীষ্মকালে ঢিলেঢালা হালকা পোশাক এবং ঝড়- বৃষ্টির সময় বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করতে হয়।

পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদা- নিজ পেশা ও পরিচিতি সমাজে তুলে ধরার জন্য নানা ধরনের পোশাক পরতে হয়। তাই ডাক্তার, সৈনিক কিংবা নার্সদের পোশাক দেখলেই তাদের পেশা বোঝা যায়। খেলোয়াড়দের পোশাকের রং ও ডিজাইন দেখলেও দল শনাক্ত করা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পোশাক দেখলেও সে দেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।

আত্মরক্ষা- প্রাচীনকালের মানুষেরা নানা প্রতিকূল অবস্থা ও পশু-প্রাণী থেকে আত্মরক্ষার জন্য দেহে আচ্ছাদন ব্যবহার করত। পরবর্তীতে মানুষ বাইরের আঘাত ও অনিষ্ট থেকে দেহকে নিরাপদে রাখার জন্য পোশাক পরিধান করে। যেমন- কলকারখানার শ্রমিকরা বিশেষ ধরনের পোশাক, হেলমেট ও জুতা পরিধান করে; নার্স, ডাক্তার ও রসায়নবিদরা রোগ-জীবাণু ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য নিরাপত্তামূলক পোশাক যেমন- এপ্রোন, মাস্ক ও দস্তানা পরে; অগ্নি প্রতিরোধক সংস্থার কর্মীরা গায়ে যেন আগুন না লাগে সেজন্য এসবেসটস তন্তুর তৈরি পোশাক পরে; সৈনিকরা বুলেট প্রতিরোধক জ্যাকেট গায়ে দেয়; খেলোয়াড়রা দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নিরাপত্তামূলক পোশাক ও আনুষঙ্গিক সজ্জা পরে; শিকারিরা আঁটসাঁট লম্বা প্যান্ট, ফুলশার্ট ও হাঁটু পর্যন্ত লম্বা জুতা, মাথায় হ্যাট পরে; ডুবুরিরা ভাসমান জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট ব্যবহার করে।

৬. সৌন্দর্য প্রকাশ- পোশাক হচ্ছে এমন একটি উপকরণ, যার মাধ্যমে ব্যক্তি খুব সহজেই নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচনটি সঠিক হতে হবে। সময় ও স্থান বুঝে মানানসই পোশাক পরলে ব্যক্তির সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যায়।
কাজ- ১ আত্মরক্ষার জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পোশাক পরিধান করা উচিত তার একটি চার্ট দলগতভাবে উপস্থাপন কর। কাজ - ২ ছকের মাধ্যমে দেখাও যে কোন ঋতুতে কী ধরনের পোশাক পরিধান করতে হয়। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রিপন। খেলার সময় তার দল একটি নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক পরিধান করে।
Read more